Trending Bangla Blogs

আমলকির যত উপকারিতা

66

আমলকির যত উপকারিতা

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

আমলকির যত উপকার

১. শীতের সকালে আমলাকি খেলে আপনি সারা বছর সুস্থ থাকবেন।

২. আমলাকি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি প্রতিদিন মধুর সাথে আমলকির রস খান তবে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৩. আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

৪. আমলকি হৃদরোগের জন্য ভাল। হার্টকে সুস্থ রাখতে শীতে প্রতিদিন আমলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটির সাহায্যে আপনার হৃদয়ের পেশী শক্তিশালী হবে, যার মাধ্যমে হৃদরোগীর শরীরে পরিষ্কার রক্ত ​​সরবরাহ করতে সক্ষম হবে এবং আপনি সুস্থ থাকবেন।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

৬. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

৭. শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

৮. আমলকি আমাদের পাচনতন্ত্র এবং কিডনি সুস্থ রাখে।

৯. আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি নতুন চুল গজাতে ও চুল দ্রুত বেড়ে উঠতে সাহায্য করে । এছাড়া আমলকির রস চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুলকে খুশকিমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

গর্ভবস্থাকালে আমলকি খাওয়া কি নিরাপদ ?

গর্ভাবস্থায় একজন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের প্রতিটি কার্যই তার গর্ভস্থ শিশুটির উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাব ফেলে।একজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস তার গর্ভের মধ্যে থাকা শিশুটির স্বাস্থ্য এবং বিকাশকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে,আর সেই কারণেই পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ একটি সুষম আহার গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কোনও গর্ভবতী মহিলার খাদ্য পরিকল্পনায় যেকোনও খাদ্যপদকে অংশীভূত করার পূর্বে সেটি মা এবং সন্তান উভয়ের জন্যই কীভাবে এবং কতটা উপকারি বা ক্ষতিকারক প্রভাব(যদি কিছু ক্ষতিকারক হয়ে থাকে)ফেলতে পারে সে সম্পর্কে বিশদে জানাটা খুবই জরুরী।

অবশ্যই হ্যাঁ,গর্ভাবস্থায় আমলকি(ভারতীয় বৈঁচিজাতীয় ভক্ষণযোগ্য ফল বিশেষ) খাওয়া একদম নিরাপদ।আমলকি হল ছোট একটা পাতিলেবুর মত দেখতে এক প্রকার ফল,যা পাকা অবস্থায় টক–মিষ্টি স্বাদের এবং উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে।এই ফলটি পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বিশেষত ভিটামিন C তে,যা এটিকে ভীষণ ভাল একটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে হিসেবে গড়ে তুলেছে।অধিকাংশ আয়ুর্বেদিক ওষুধের একটা মূখ্য উপকরণ হল আমলকি এবং এটি আবার গর্ভবতী মহিলাদের জন্য একটি সুপারিশকৃত খাদ্যও বটে।এর উচ্চ ভিটামিন এবং ফাইবার উপাদানটি এটিকে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য একটা দুর্দান্ত পছন্দ করে তুলেছে।

গর্ভাবস্থায় আপনি কতগুলি আমলকি খেতে পারেন?

গর্ভাবস্থাকালে প্রতিদিন আপনার এক কিম্বা দুটি করে তাজা আমলকি খাওয়া নিরাপদ।যদি আপনি গর্ভাবস্থায় আমলকিকে তার গুঁড়ো রূপে খেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে খাওয়ার জন্য প্রতিদিন এক চা–চামচ হল আদর্শ।

গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি

আমলকি হল এমন একটি ফল যার মধ্যে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রচুর উপকারিতা রয়েছে।তবে আপনি যদি গর্ভাবস্থায় সেটি খুব বেশি মাত্রায় খেয়ে ফেলেন তবে সেক্ষেত্রে বদহজম,কোষ্ঠকাঠিণ্য,ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে এবং এছাড়াও আপনার পেটে বিপর্যয়তার সহিত আপনাকে জলশূণ্যও করে তুলতে পারে।আর সেই কারণেই আপনাকে কেবল সীমিত পরিমাণেই আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Comments are closed.