Trending Bangla Blogs

একটি সুন্দর বারান্দা বাগান পরিকল্পনা জেনে নিন !

177

প্রায় সবার মাঝেই বাগান করার শখ থাকে। কিন্তু যারা শহরে ছোট ফ্ল্যাট বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে, তাদের জন্য বাগান করা খুবই কঠিন কাজ। তাদের বাগান করতে হয় শুধুমাত্র বারান্দা কিংবা ছাদে ! 

বাইরের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা গাছ গুলোকে বারন্দায় ভালোভাবে বড় করার জন্যে প্রয়োজন হয় বাড়তি কিছু যত্নের। তাই আজকে আমরা জানবো একটি সুন্দর বারান্দা বাগান পরিকল্পনা সম্পর্কে ! 

আসছে শীত। ফুটবে নানা মরশুমি ফুল। কিন্তু জায়গা আর জমির বড়ই অভাব। কারণ, ছোট্ট বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট। তাই এক টুকরো জমির জন্য আর সাধের বাগানের জন্য ভরসা বারান্দা কিংবা ছাদ। তাই যেভাবের তৈরি হবে সেই শখের বাগান তারই বিস্তারিত এই পোস্টে দেওয়া হয়েছে।  

শহরতলির ফ্ল্যাট বা বাড়ির পরিসরে বারান্দার জন্য বরাদ্দ জায়গাটুকু সত্যিই কম। কিন্তু তাতে কী? তার জন্য ইচ্ছে পূরণে খামতি থাকবে কেন? হোক না সুন্দর বারান্দা, কিছু প্ল্যানিং এই হতে পারে আপনার পছন্দের মেলবন্ধন-বারান্দায় বাগান। 

মাঝে মাঝে সার দেওয়ার সাথে সাথে টবের মাটি আলগা করে দিন। সেক্ষেত্রে কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার এর কথা না ভেবে ন্যাচারাল শাক সবজির খোসাকেও বেছে নিতে পারেন। মাঝে মাঝে গাছের পাতা ও ডাল প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রিম করে নেবেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো
গাছের সালোকসংশ্লেষণের বা খাদ্য উৎপাদনের প্রধান উপাদান হলো সূর্যের আলো ও পানি। পরিমিত আলো ও পানি ছাড়া গাছ কখনো খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। তাই আপনি বারান্দার জন্য কোনো গাছ কেনার আগে আপনার বারান্দায় প্রতিদিন কত ঘন্টা সূর্যের আলো আসে তা পর্যবেক্ষণ করুন। পাশাপাশি পরোক্ষ আলোর প্রতিও লক্ষ্য রাখুন। অর্থাৎ কোনো গাছ বা দেয়াল আপনার বারান্দায় সূর্যের আলোকে অবরুদ্ধ করছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

টব নির্বাচন
আপনি যেই পাত্রে আপনার গাছগুলো রাখার পরিকল্পনা করছেন তা চারাগাছের জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা নিশ্চিত করুন। কোন টবে আপনার গাছ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পাবে সেটা নির্ধারণ করুন। যেমন আপনার টব যদি হয় প্লাস্টিকের, তাহলে আপনার চারাগাছ ছত্রাক আক্রান্ত হতে পারে৷

আবার মাটির টব ব্যবহার করার আগে সেটা গাছের জন্য কতোটা উপকারী তাও পরীক্ষা করে দেখুন। তাছাড়া সৌন্দর্য সচেতন কেউ চাইলে তার বারান্দায় সিরামিক বা কাঠের টবও ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই গাছের প্রয়োজন অনুসারে টব কিনবেন। মাঝে মাঝে গাছের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য টবের স্থান পরিবর্তন করতে হবে।

মাটি নির্বাচন
বলা হয় আমাদের দেশের মাটি গাছ উৎপাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত। কিন্তু তাই বলে যে সব ধরণের মাটিই গাছের জন্য ভালো হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার বারান্দার চারাগাছগুলো কোন মাটির দ্বারা ভালোভাবে বড় হবে তা আগে নির্ধারণ করুন। কেননা একেক গাছের জন্য একেক ধরণের মাটির দরকার হয়।

পানি
আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী টবে নিয়মিত পানি দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন পানি দিলে গাছ সতেজ থাকে এবং খুব দ্রুত বাড়ে। তবে বর্ষাকালে টব যদি বাইরে থাকে, তবে প্রতিদিন পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ বৃষ্টির পানি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। টবের মাটি যদি ভেজা থাকে, তাহলে পানি দিবেন না। লক্ষ্য রাখবেন টবের মাটি যেন কখনোই একেবারে শুষ্ক না হয় বা টবে পানি জমে না থাকে। এই দুই অবস্থাই গাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আবার গ্রীষ্মকালে গাছে নিয়মিত পানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। যেমন গ্রীষ্মকালে দিনের যেকোনো সময় গাছে পানি দেওয়া ঠিক না। পানি দিতে পারেন শুধুমাত্র বিকেলের সময়টা যখন সূর্যের আলো গাছ থেকে সরে যায়। কেননা সূর্যের আলো থাকা অবস্থায় পানি দিলে সেগুলো গরম হয়ে গাছের গোড়ায় ঢুকে যায়, যা গাছের জন্য আরো ক্ষতিকারক।  

তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি নির্ভর করে বিশেষভাবে সূর্যের আলোর তাপমাত্রার উপর।  এজন্যে আপনার বারান্দার বাগানটি এমন স্থানে তৈরি করুন যেখানে নিয়মিত সূর্যের আলো আসে এবং যথেষ্ট পরিমাণ তাপমাত্রা থাকে।  

তাছাড়া গাছপালার জন্য আবহাওয়ায় পরিমিত পরিমাণে আর্দ্রতা সব সময় প্রয়োজন। চিরসবুজ গাছের জন্য ৩০ শতাংশের বেশি আর্দ্রতার প্রয়োজন। সব সময় চেষ্টা করবেন গাছের চারদিকে একটা আর্দ্র আবহাওয়া সৃষ্টি করতে। কারণ আর্দ্রতা কমে গেলে গাছের আগা বাদামি রঙের হয়ে যায় এবং ফুলের কলি ঝরে পড়ে।

সার দেওয়া
মাটিতে বেড়ে ওঠা চারাগাছগুলোর তুলনায় টবের  গাছে পুষ্টি উপাদান  কম থাকে। সঠিকভাবে যত্ন না  করলে টবের গাছ অল্প কিছুদিনের মধ্যে চুপসে যায়, সতেজতা হারিয়ে ফেলে এবং সৌন্দর্য কমে যায়। কেননা টবে অল্প পরিমাণ মাটি দিয়ে গাছ লাগানো হয়, যা সব রকমের গাছের জন্য পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। তাই টবের গাছগুলোর জন্য নিতে হয় বাড়তি কিছু পরিচর্যা।  

তাই আপনার পছন্দের চারাগাছগুলোকে সতেজ রাখতে ব্যবহার করতে পারেন প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম সার। কিন্তু টবে মাটির পরিমাণ যেহেতু কম সেহেতু সেগুলোতে অল্প পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে যদি আপনার সার প্রাকৃতিক অর্থাৎ বাড়িতে তৈরি কম্পোস্ট সার হয়, তাহলে আপনি টবে পরিমাণের অতিরিক্ত সারও প্রয়োগ করতে পারেন। কারণ এর পরিমাণ কম বা বেশি হলেও গাছের বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না।

Comments are closed.