Trending Bangla Blogs

গরুর মাংস কতটুকু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

66

গরুর মাংস কতটুকু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

গরুর মাংস কতটুকু খাবেন

গরুর মাংস আমাদের সবার প্রিয়। তাই বলে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয় অথবা একেবারে খাবেন না এমনটাও ঠিক নয়।

খাওয়ার সময় জেনে নিন কোন রোগে কতটুকু মাংস খাবেন।

হৃদরোগ

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের গরু ও খাসি খাওয়া একেবারেই নিষেধ। তবে চর্বি ছাড়া গরুর মাংস খেতে পারেন। তাও খুব কম পরিমাণে। সরাসরি মাংস না খেয়ে রুটি বা ভাত দিয়ে খেতে পারেন। তবে মাংসের ঝোল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কিডনির সমস্যা

কিডনির সমস্যা হলে মাংস না খাওয়াই ভালো। তবে দিনে ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেতে পারেন এর বেশি নয়। যাদের কিডনি ডায়ালাইসিস করানো হয়েছে তারা প্রোটিন পেতে গরুর মাংস খেতে পারেন।

অ্যালার্জি

অনেকের গরুর মাংসে অ্যালার্জি রয়েছে। তাদের মাংস খেলে শরীরে চুলকানিসহ লাল লাল ছোপ দেখা দেয়। তাই তারা গরুর মাংস এড়িয়ে চলুন। তবে ঈদের দিন খেতে চাইলে খুব অল্প পরিমাণ খান সেই সঙ্গে হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে নিন।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের সব খাবারই পরিমিত পরিমাণ খেতে হয়। তাই মাংস খেতেও সতর্ক থাকুন। মাংসের বিরিয়ানিও খান কম। তবে মাংস খেলেও এর কলিজা ও মগজ খাবেন না। যেদিন গরুর মাংস খাবেন, সেদিন ইনসুলিন দুই ইউনিট বাড়িয়ে নিন।

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ যাদের আছে তারা চর্বি ছাড়া মাংস খাবেন। অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না।

হজমে সমস্যা

অনেকের মাংস হজমে সমস্যা দেখা দেয় তাই তারা বেশি মসলাজাতীয় সেই সঙ্গে অতিরিক্ত মাংস খাবেন না। খুব বেশি সেদ্ধ না হলে খাবেন না। এছাড়া মাংস খাওয়ার পর দ্রুত হজম হতে আদা পানি অথবা শুধু আদাও খেতে পারেন।

খাবার প্রক্রিয়া

গরুর মাংস খেয়েও আপনি ভালো থাকতে পারবেন যদি নিয়ম মেনে রান্না করেন। রান্নায় তেলের ব্যবহার কমিয়ে রান্না করুন। ভুনা করে বেশি মসলাযুক্ত রান্না করবেন না। গরুর মাংসের চর্বির পরিমাণ কমাতে বাড়তি চর্বি ফেলে দিয়ে রান্না করা যেতে পারে। কারণ চর্বির পরিমাণ বেশি হলে ক্ষতি শরীরের জন্যই। তবে গরুর মাংস কতটুকু ক্ষতিকর, সেটা নির্ভর করবে আপনি কী পরিমাণে খাচ্ছেন তার উপর। আবার সবজি দিয়ে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। তবে সপ্তাহে দুই থেকে একবার খাওয়াই ভালো। এটি ক্যানসার প্রতিরোধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। তাই গরুর মাংস খাবেন, কিন্তু পরিমাণ সীমিত।

দৈনিক গরুর মাংস খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হলো ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম। ৩ আউন্স মাংসে আছে ২০০ কিলো ক্যালোরি যা দৈনিক মাত্র ১০ ক্যালোরির জোগান দেবে।

এই ৩ আউন্স মাংসে কোলেস্টেরল থাকে ৫৩ মিলিগ্রাম। একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক নিরাপদ মাত্রা হলো ৩০০ মিলিগ্রাম এবং হার্টের রোগীদের জন্য ২০০ মিলিগ্রাম। তাই তিন আউন্স গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ।

শারীরিক অবস্থা ও বয়স বুঝে মাংস কতোটুকু খাবেন সেটা ঠিক করুন।

রান্নার আগে মাংসের চর্বি কেটে ফেলে দিন।

মাংস ছোট টুকরা করে কাটুন। এতে ভালোভাবে সেদ্ধ হবে।

উচ্চতাপে রান্না করুন মাংস।

সিরকা, লেবুর রস, পেঁপে বাটা, টক দই ইত্যাদি দিয়ে ম্যারিনেট করে রাখতে পারেন। মাংস তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হবে।

রান্নায় তেলের ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন।

মাংসের সাথে প্রচুর পরিমাণে সবজি এবং সালাদ খান। সবজি ও সালাদে থাকা ফাইবার মাংস হজমে সাহায্য করে।

রেড মিট খেলে অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, ইসুবগুলের ভুসি ও অন্যান্য তরল খাবার খান।

মাংস ভাজা, পোড়া ইত্যাদিতে তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এভাবে না খেয়ে সবজি দিয়ে রান্না করুন।

মাংস খেয়ে ক্যালোরির পরিমাণ যেন বেড়ে না যায়, সেজন্য প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও হাঁটুন।

Comments are closed.