Trending Bangla Blogs

ভালো ঘুম হয় না সারা রাত

69

ভালো ঘুম হয় না সারা রাত

আজকালকার দিনে ঘুমের সমস্যায় নাজেহাল বেশিরভাগ মানুষই। দৈনন্দিন জীবনে ঘুমকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়। কয়েকটা বদভ্যাস বাদ দিলে সহজেই ভালো ঘুম হবে,

রাতে ভালো ঘুম হয় না? চোখ জুড়িয়ে আসলেই নানা রকম ভয়ের স্বপ্ন এসে ভিড় করে? আজকালকার দিনে ঘুমের সমস্যায় নাজেহাল বেশিরভাগ মানুষই। আসলে আমাদের মন যদি শান্তিতে না থাকে, তাহলে সেই অশান্তির রেশ আমাদের ঘুমেও এসে লাগবেই। আর ঘুম যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলেও মনে শান্তি থাকবে না।

জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ ঘুমের জন্য বরাদ্দ। কথাটা কমবেশি সকলেই জানে। কিন্তু মানে ক’জন? আসলে, তাঁদের একাংশও ঘুম-রোগের শিকার। তাঁদের চিন্তা, ঘুম এখন আর বয়সকালের সমস্যা নেই। এ অসুখের শিকার এখন সব বয়স, এমনকি কৈশোরও। ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিদ্রার শিকার হয়তো সকলে নয়। কিন্তু জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ঘুম নিয়ে কোনও না কোন সমস্যায় জেরবার। এবং সিংহভাগই জানেন না যে সমস্যাটা আদতে ঘুমের।

দৈনন্দিন জীবনে ঘুমকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়। ঘুমের সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘড়ি ধরে ঘুমোতে যাওয়া ও উঠে পড়া যে সবচেয়ে জরুরি, তা লোকে মেনে চলে না। তাঁর পরামর্শ, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম করে ঘুমোলে স্ট্রেস, টেনশন, ভুলে যাওয়া, খিটখিটে হয়ে পড়া, উদ্বেগ, গ্যাস্ট্রাইটিস ইত্যাদির মতো নিত্য বয়ে বেড়ানো ঝামেলা জীবন থেকে গায়েব হতে বাধ্য। কয়েকটা বদভ্যাস বাদ দিলে সহজেই ভালো ঘুম হবে, চিকিৎসকেরাও এমন টিপসই দিচ্ছেন।

মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখা

ঘুমনোর আগে নিজেকে একা কিছুক্ষণ সময় দিন। সারাদিন মোবাইল ও ল্যাপটপে যত কাজ করেছেন সেগুলো বরং মনে মনে ভাবুন। চোখটাকেও বিশ্রাম দিন। মোবাইল বা ল্যাপটপের এলইডি লাইটের ফলে চোখে প্রভাব তো পড়েই, সঙ্গে ঘুমেরও বড়সড় ব্যাঘাত ঘটে। ডিজিটাল স্ক্রিন মস্তিষ্ক থেকে মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়। এই মেলাটোনিন আপনাকে ঘুমোতে সাহায্য করে। তাই আজ থেকে মোবাইল বা ল্যাপটপ ঘুমনোর আগে একদম বাদ।

চা বা কফি

ঘুমনোর বেশ কিছুক্ষণ আগেই ডিনার সারার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু অনেকেই আবার এই গ্যাপে চা বা কফি খান। কিন্তু মনে রাখবেন, চা বা কফিতে থাকা ক্যাফিন আপনার ঘুম নষ্ট করে দেয়। অ্যাড্রিনালির নিঃসরণ বাড়িয়ে আপনাকে আরও সজাগ করে তোলে। মাথায় তৈরি হওয়া কেমিক্যাল অ্যাডিনোসিন যা আপনাকে ঘুমোতে সাহায্য করে, চা বা কফি সেটার নিঃসরণ আটকে দেয়।

তৈলাক্ত খাবার

বিয়ে বাড়ি, জন্মদিন, পার্টি থেকে খুব তৈলাক্ত খাবার খেয়ে এলে সহজেই ঘুম আসতে চায় না। কারণ পেট যদি সঠিক না থাকে, তবে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবেই। তৈলাক্ত খাবার খেলে শরীরের ক্ষতির পাশাপাশি ঘুমেরও ক্ষতি হয়। ঘুমের আগে স্ন্যাকস খাওয়া বা জাঙ্ক ফুড খেলেও শরীরের ক্ষতি হয় এবং তার প্রভাবে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

ধূমপান

ধূমপান শরীরের পক্ষে কতটা ক্ষতিকারক তা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে প্রমাণিত। শ্বাসনালী ও ফুসফুসের ক্ষতি করার পাশাপাশি ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায় ধূমপান। আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, সিগারেট পান করলে আপনার শরীরে রিল্যাক্স হয়, তবে তা ভুল জানেন। এর থেকে বেরনো নিকোটিন আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। যে কোনও ধরনের তামাকজাত দ্রব্যই ঘুমের বিশাল ক্ষতি করে।

ঘুমের আগে ভয়ের সিনেমা

আপনার হয়তো থ্রিলার বা ভূতের সিনেমা দেখতে ভালো লাগে। সারাদিনের কাজের পর যখন আপনি ঘুমোতে যান, তখন সময় পেলেই এ ধরনের ছবি দেখার অভ্যেস রয়েছে? তবে শীঘ্রই এটা বদলাতে হবে। এ ধরনের ছবি দেখলে শরীরে অ্যাড্রিনালিনের নিঃসরণ হয়। ফলে তা আপনাকে আরও বেশি সজাগ করে তোলে। ভূতের ছবি অনেক সময় বাজে স্বপ্ন দেখায়। ফলে ঘুম নষ্ট হয়।

ঘুম অবশ্য জীবনের অপরিহার্য অংশ। সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাতে হয় আমাদের প্রতিদিন।

আমরা যখন ঘুমাই, তখন শরীরে অদ্ভুত সব ঘটনার ঘনঘটা ঘটে—আমরা কখনো অনেক দূরে চলে যাই স্বপ্নের ভুবনে—কী আশ্চর্য সফলতার সঙ্গে শরীর তখন নিজের দেখভাল নিজেই করে!

ঘুম হয় নানা স্তরে। আমরা নেমে আসি অনেক সময় গভীর ঘুমের স্তরে, হঠাৎ আমরা যখন জেগে উঠি, এ যেন ঘুমের অতল থেকে ওপরে উঠে আসা, আবার আমরা অনেক সময় থাকি নিদ্রাও জাগরণের সীমান্তে।

অনেক সময় আমাদের ঘুম হয় না। জেগে জেগে কাটে রাত। চোখের পাতা এক হয় না। দুশ্চিন্তা, অফিসের কাজ, পরীক্ষা, বিয়ে সামনে… ভালো-মন্দ অনেক কারণেই তো কাটে নির্ঘুম রাত। সারা রাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সুনিদ্রা যাতে হয়, এরও উপায় আছে। স্লিপ হাইজিন বা নিদ্রাবিধি। মন ও শরীরকে শান্ত, সতেজ ও সবল রাখে। আছে কিছু পরামর্শ, যেগুলো মানতে পারলে সুনিদ্রা হবে।

কী করলে ঘুম আসবে

ঘুম না এলে বিছানায় শুতে যাওয়া ঠিক নয়। ঘুম না এলে এমন কিছু করতে হয়, যাতে মন শিথিল হয়। পড়ুন একটি হালকা ধরনের বই, শুনতে পারেন নরম সুরের গান। এতে শরীর শিথিল হবে, মন যাবে অন্য কোথাও।

২০ মিনিট পর্যন্ত ঘুম আসছে না? তাহলে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া ভালো। এমন কিছু খুঁজে নিতে হবে, যা করলে মন শিথিল হয়। বিরক্তি বা রেশ কেটে না গেলে ঘুমাতে যাবেন না।

ঘুমানোর আগে টিভি দেখা, অফিসের কাজ করা—এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। শোবার ঘরে মৃদু আলো, তাজা ফুল রাখতে পারেন।

শোবার ঘর হবে শান্ত, অন্ধকার কিন্তু শীতল। যেন গুহার মধ্যে শয়ন। বাদুড়ের মতো ঘুম। বাদুড় ঘুমায় ১৬ ঘণ্টা। গুহার সাপ শীতলতায় থাকে বলেই এত নিদ্রা।

চেষ্টা করবেন একই সময়ে শুয়ে পড়তে। আবার একই সময়ে ঘুম থেকে উঠে পড়বেন। ছুটির দিনগুলোতেও এই নিয়ম মেনে চলবেন।

ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে সতেজ লাগবে।

দিনের বেলা না ঘুমানোই ভালো। ঘুমালেও বিকেল তিনটার পর ২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না।

জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চললে দেখবেন ঘুম চলে আসছে।

শোবার বিছানায় পড়া, টিভি দেখা, লেখা, ফোনে কথা বলা নয়।

দুপুরে খাবারের পর থেকে ক্যাফেইন-জাতীয় ও পানীয় নয়। অর্থাৎ চা-কফি, চকলেট নয়।

ধূমপান ও অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে

খিদেপেটে শুতে যাবেন না, আবার ভরপেটেও যাবেন না শুতে।

নিয়মিত ব্যায়ামে ঘুম আনে। দিনে আধঘণ্টা ব্যায়াম যথেষ্ট। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা। শুতে যাওয়ার আগে আগে ব্যায়াম নয়। ব্যায়াম দিনের প্রথম দিকে বা বিকেলে।

দিনে যত পারেন দিনের আলো লাগাবেন শরীরে, আলো যেন ঢোকে বাসগৃহে, অফিসঘরে।

ঘুমের বড়ি সেবন ঠিক নয়৷ তবে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ক্ষেত্রে হতে পারে। এসবের পরও ঘুমের সমস্যা থাকে। কেবলই কি বিনিদ্র রজনী? হয়তো তা নয়। ঘুমিয়ে পড়তে যা সমস্যা। অনেকে ঘুমিয়ে পড়েন ঠিকই, কিন্তু মাঝরাতে ঘুম ভাঙে। বিচ্ছিরি অবস্থা, আবার ঘুমিয়ে পড়তে কষ্ট। অনেকের রাতে ঘুম হলেও ঘুম ভাঙে খুব ভোরে। আবার অনেকের রাতে ঘুমের সমস্যা নেই, কিন্তু ঘুম থেকে উঠলে মনে হয় না বিশ্রাম হয়েছে।

মাঝেমধ্যে ঘুম হলো না রাতে, নিদ্রাবিধি মেনে দেখুন। ঘুমের সমস্যা যদি হয় দীর্ঘদিনের সমস্যা, সপ্তাহে তিন-চার দিন অনিদ্রা, চলছে এ রকম তিন সপ্তাহের বেশি, দুই মাস হয়ে গেল অথচ না ঘুমানোর তেমন কোনো কারণ নেই। দিনে ঘুম ঘুম ভাব, কাজে মন বসে না, মেজাজ খিটখিটে হয়।

ক্লান্তি তো আছেই সঙ্গী হিসেবে। এমন ক্রনিক অনিদ্রার জন্য প্রয়োজন পেশাদারি পরামর্শ। চাই চিকিৎসকের সাহায্য। ঘুমের ঘাটতি হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা খর্ব হয়, বেড়ে যায় ডায়াবেটিস-হৃদ্রোগ হওয়ার প্রবণতা। ঘুমের সমস্যার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু সমস্যা থাকে। যেমন ঋতুবন্ধ, বিষণ্নতা। খুব ভোরে জেগে ওঠা বিষণ্নতার একটি লক্ষণও বটে। অন্যগুলো হলো রেস্টলেস লেপস সিনড্রোম আর স্লিপ অ্যাপনিয়া। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে বোবায় ধরে, মাঝেমধ্যেই শ্বাসরোধ হয়। কেউ কেউ ঘুমের মধ্যে হাঁটেন অজান্তে, এরও চিকিৎসা চাই। এমন হলে নির্ঘুম কয়েকটি রাত নয়, এ হলো অনিদ্রা রোগ। তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

Comments are closed.