Trending Bangla Blogs

জেনে নিন গাজর খাওয়া স্বাস্থ্য উপকারী

58

শীতকালীন সবজি হিসেবে খাবারের তালিকায় অনেকে গাজর রাখতে খুব পছন্দ করেন। তরকারির সঙ্গে মিশিয়ে কিংবা গাজর কাঁচাও খাওয়া যায়। তবে যেভাবেই খান না কেন গাজরে রয়েছে নানা উপকারিতা। ভিটামিন ছাড়াও ত্বককে সুন্দর রাখতে এমনকি ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা পেতেও গাজরের জুড়ি নেই। আসুন এবার জেনে নিন গাজরে কী কী উপকারিতা আছে-

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: গাজর খেলে বৃদ্ধি পাবে আপনার দৃষ্টিশক্তি। এতে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে রাতের বেলায় অন্ধকারেও চোখের ভালো দেখার জন্য দরকারি এমন এক ধরনের বেগুনি পিগ্মেন্ট এর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে গাজর।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: গাজর যারা খান তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি কম থাকে। গাজরে আছে ফ্যালক্যারিনল (falcarinol) এবং ফ্যালক্যারাইনডিওল (falcarindiol), যা আমাদের শরীরে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদানগুলোকে রিফিল করে। তাই গাজর খেলে ব্রেস্ট, কোলন, ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

যৌবন ধরে রাখে: গাজর শুধু শরীরের জন্য ভালো তা নয়, এটি আমাদের জন্য অ্যান্টি-এজিং উপাদান হিসেবেও কাজ করে। এতে যে বেটা ক্যারোটিন আছে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে আমাদের শরীরের ক্ষয়প্রাপ্ত সেলগুলোকে ঠিকঠাক করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি এজিং সেলগুলোর গতি ধীর করে, এতে যৌবনকে অধিক সময়ের জন্য ধরে রাখা সম্ভব হয়।

ত্বক ভালো রাখে: সুন্দর ত্বকের জন্যও গাজর খেতে পারেন। এটা আপনার ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করবে। এতে বিদ্যমান ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করবে। সেইসঙ্গে ত্বকের অযাচিত ভাঁজ পড়া, কালো দাগ, ব্রন, ত্বকের রঙের অসামাঞ্জসসতা ইত্যাদি দূর করে আপনাকে সুন্দর হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

হৃদপিণ্ড ভালো রাখে: হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতেও কাজ করে গাজর। এর ক্যারোটিনয়েডগুলো হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া নিয়মিত গাজর খেলে হৃৎপিণ্ডে রোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসে।

দাঁত সুন্দর রাখে: সুন্দর ও সুস্থ সবল দাঁত কে না চায়। এ জন্য এখন থেকেই নিয়মিত গাজর খাওয়া শুরু করুন। এটি আপনার দাঁত ও মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখে। গাজর মুখের প্ল্যাক ও খাবারের উপাদান মুখ থেকে দূর করে টুথ পেস্ট ও টুথ ব্রাশের মতোই। এ ছাড়াও গাজরের মিনারেলগুলো দাঁত মজবুত থাকতে সাহায্য করে অনেকাংশেই।

গাজর হলো মুলা জাতীয় সব্জি। অন্যান্য সব্জির ন্যায় গাজরকেও রান্না করে খেতে হয়। আবার বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই গাজর সালাদ হিসাবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। গাজরকে পোলাও, খিচুড়ির সাথে মিশিয়ে রান্না করলে তা পুষ্টিযুক্ত ও সুস্বাদু হয়। এছাড়া গাজর দিয়ে আচার, হালুয়া তৈরি করা হয় – যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কেউ কেউ আবার কাঁচা গাজর ছেটে ছেটে খেতে পছন্দ করেন। যাই হোক গাজরের উপকারিতার শেষ নেই।

গাজর আমাদের দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। সাধারণত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে গাজরের মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা আমাদের শরীরের জন্য অতিব প্রয়োজনীয়। এটি এমন এক ধরনের সব্জি যাতে রয়েছে খনিজ লবণ ও ভিটামিন। এতে ভিটামিন এ, বি, সি, ই ও খনিজ লবণের মধ্যে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, মেঙ্গানিজ, সিলিকন, আয়োডিন, সালফার, ফসফরাস, ক্লোরিন ইত্যাদি রয়েছে।

গাজরে খুব বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকার ফলে তা আমাদের দাঁত, হাড়, ত্বকের সুস্থতার জন্য উপকারী। আয়রন মৌল থাকার জন্য রক্তের চলাচল স্বাভাবিক করে তোলার ক্ষেত্রে গাজরের ভূমিকা যথেষ্ট। এ ভিটামিন থাকা সবজিগুলোর মধ্যে গাজর অন্যতম। সাধারণত কেরোটিন যৌগ হিসাবে থাকা রঞ্জক পদার্থগুলো আমাদের খাদ্য নালিতে গিয়ে ভিটামিনে রূপান্তরিত হয়। চোখের দুর্বলতাও মানসিক চাপ দূরীকরণে গাজর সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

রাতকানা রোগ দূরীকরণে গাজর বেশ উপকারী। ভিটামিন-এ ত্বক মসৃণ ও সতেজ রাখে। গাজরে থাকা ভিটামিন ‘বি’,‘সি’ ও ‘এ’ শরীরকে স্বাভাবিক সুস্থ রাখে। দেহের শক্তি ও বিকাশের জন্য আবশ্যকীয় প্রোটিন, শক্তিদায়ক উপাদান চর্বি-ও কার্বো-হাইড্রেট গাজরে রয়েছে। তাই শরীরে দুর্বলতা অনুভব করলে গাজর খেলে শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। কারণ কার্বন-হাইড্রেট থেকে আমাদের শরীর শক্তি আহরণ করে। গাজরের রস খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে শক্তি বৃদ্ধি হয়।

পাচন কাজে গাজরের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ভিটামিন বি, পাচন কার্য সহজ করে তোলে। ফলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড গঠনে বাধাগ্রস্ত হয়। গাজর পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে। গাজর কাঁচা খেলে দাঁত মজবুত হয় ও হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। গাজরের রস সব ধরনের জ্বর, দুর্বলতা, নাড়ি সমপর্কিত বিকার, রক্তস্বল্পতা, নিরাশহীন জীবনী শক্তি ও দুর্বলতার ক্ষেত্রে অত্যধিক প্রভাবশালী বলা যায়। আবার গ্রীস্ম ঋতুতে গাজর খাওয়া উচিত নয়। কারণ গাজর খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। ঠাণ্ডায় শরীরকে গরম রাখার জন্য এবং ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গাজর খাওয়া উচিৎ।

গাজরের রস আশ্চর্যজনক কাজ দেয়। যারা বিভিন্ন রোগে ভোগে থাকেন তারা যদি খাদ্যের সঙ্গে গাজরের রস যুক্ত করে খান তাহলে তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং কোনো ধরনের রোগ থাকবে না বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ভিটামিন-এ হাড় এবং দাঁতের বিকাশ ঘটায়। শারীরিক দিক থেকে সুস্থ রাখে এবং গ্রন্থি প্রক্রিয়া সঠিক রাখে। গাজর সংক্রমণের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন-এ এর খুবই প্রয়োজন। তাতে প্রসূতি এবং গর্ভস্থ সন্তান সুস্থ থাকে। গাজরে থাকা ভিটামিন-এ, ই ও বিটা কেরোটিন ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের অভিমত। গবেষনায় দেখা গেছে, প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই যুক্ত রক্ত প্রবাহ ক্যান্সারকে বিকশিত হতে দেয় না। গাজর ক্যান্সার রোগীদের জন্য খুব ফলদায়ক বলে গবেষণায় প্রকাশ।

Comments are closed.