Popular Bangla Blogs

বুকে জমে থাকা কফ নিরাময়ের উপায়

184

শুষ্ক কফ জমে থাকা বেশ বিরক্তিকর একটি সমস্যা। এটি বিপদেরও কারণ হতে পারে। খুব বেশি কফ জমে থাকলে শ্বাসকষ্ট হয়। আর এই শ্বাসকষ্ট কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে। তাই যারা এই সমস্যায় ভুগছেন, আজ থেকেই এই সমস্যাকে নির্মূল করার চেষ্টা করুন। আর এই জমে থাকা কফের সমস্যা দূর করার কিছু সহজ উপায় আছে। চলুন জেনে নেয়া যাককফ নিরাময়ের উপায়-

আদাও খুব ভালো কাজে দেয় বুকের জমা কফ তুলে দিতে।এক গ্লাস মতো পানি গরম করুন। এবার এই পানিতে একটুকরো আদা দিয়ে দিন। আদাসহ পানি ভালো করে ফোটান। ভালোভাবে ফোটানোর পর আদা তুলে নিন। এবার আদার নির্জাস সহ এই পানি পান করুন। দিনে একবার এটি পান করুন। তবে পানি যেন বেশি গরম না হয়, হালকা গরম পানি পান করবেন। সমস্ত কফ উঠে যাবে। এছাড়াও একটুকরো আদা মুখে নিয়ে রেখে দিতে পারেন। এতে শুষ্ক কাশিও কমবে, আবার বুকে জমা কফও উঠে আসবে।

গরম পানির ভাপ নিলে বুকে কফ জমতে পারে না। পানি খুব গরম করে এর ভাপ নিন। এই ভাপ নেয়ার সময় ঘরের জানালা দরজা বন্ধ করে ভাপ নিন। তাহলে ভালো কাজ হবে। নাহলে ভাপ বেড়িয়ে যাবে। আর এর সাথে ওই পানিতে মিশিয়ে নিন একটু কর্পূর মিশিয়ে নিন। দিনে দুইবার কর্পূরের ভাপ নিয়ে নিন। দেখবেন কেমন ম্যাজিকের মতো বন্ধ নাক কেমন ছেড়ে গেছে। আর বুকে জমে থাকা কফও উঠে আসছে সহজেই। এটি দিনে একবার করলেই কাজ হবে।

তাপমাত্রার তারতম্য হলে অনেকেই সর্দি-কাশিতে ভোগেন। সর্দি-কাশি একটি সাধারণ রোগ। এছাড়া আরও বিভিন্ন কারণে সর্দি-কাশি হতে পারে। তবে সর্দি-কাশি যে কারণেই হোক না কেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে অনেকের ক্ষেত্রে বুকে কিছু কফ বা শ্লেষ্মা জমে, যা স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু এই শ্লেষ্মা বা কফের পরিমাণ বেশি হলে বুকে অস্বাভাবিক শব্দ হয়, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে ও গলা ব্যথা করে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ভাইরাস সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, অ্যালার্জি, অ্যাজমা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ব্রনকাইটিস, সিওপিডি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস ও অন্যান্য ফুসফুসীয় সমস্যায় বুকে শ্লেষ্মা জমতে পারে।

বুকের শ্লেষ্মা কমাতে কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন:

মধু: ঘরোয়া চিকিৎসার একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ হল মধু। গবেষণায় পাওয়া গেছে, মধুতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো ক্ষমতা রয়েছে। বুকে শ্লেষ্মা জমলে মধু খেলে কমে যায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উপসর্গ দূর না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৩-৪ ঘণ্টায় এক টেবিল চামচ মধু সেবন করতে পারেন। ১২ মাসের কম বয়সি শিশুদের জন্য মধু উপযুক্ত নয়।

লবণ পানি: লবণ মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলেও বুকের শ্লেষ্মা দূর হবে ও উপসর্গ উপশম হবে। এক মগ পানিতে আধ চা-চামচ লবণ ঢেলে নাড়তে থাকুন। লবণ মিশে গেলে গড়গড়া করতে থাকুন। লবণ পানি মুখের ভেতর কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড রাখতে হবে। ঠাণ্ডা নয়, কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডা পানির গড়গড়া তেমন কার্যকর নয়।

গরম পানি: পর্যাপ্ত গরম পানি পান করলে শ্লেষ্মা পাতলা হবে ও কাশির মাধ্যমে সহজে বের হয়ে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানীয় বুকের শ্লেষ্মা দূর করে ব্যথা ও অন্যান্য অস্বস্তিকর অনুভূতি প্রশমিত করতে পারে।গরম স্যূপ, ব্ল্যাক টি বা গ্রিন টি, হার্বাল টি অথবা সাধারণ পানি পানে এই উপকার পেতে পারেন। এখানে গরম পানি বলতে কুসুম গরম পানিকে বোঝানো হচ্ছে।

আর্দ্র বাতাস: কক্ষের বাতাসকে আর্দ্র করলে শ্লেষ্মা পাতলা হবে ও কাশি বা গলার অস্বস্তি কমে যাবে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট কক্ষের বাতাসকে আর্দ্র করতে হিউমিডিফাইয়ার বা স্টিম ভেপোরাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। রাতে ঘুম যেতে সমস্যা হলে হিউমিডিফাইয়ার সহায়ক হতে পারে- প্রতিক্রিয়া বাড়াতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন। এছাড়া গরম পানির ভাপ টানলে অথবা উষ্ণ গোসলেও শ্লেষ্মা পাতলা হবে।

কিছু খাবার: কিছু খাবার ও মসলা বুকের শ্লেষ্মা কমাতে পারে, যেমন- রসুন, আদা, লেবু ও শুকনো মরিচের গুঁড়া বা ঝাল মরিচ। এছাড়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাস সংক্রমণে গলায় শ্লেষ্মা জমলে বেরি, জিনসেং, পেয়ারা, যষ্টিমধু, ডালিম ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেলে উপকার পাওয়া যায়

Comments are closed.