Trending Bangla Blogs

রসুনের উপকারিতা এবং ব্যবহার

71

রসুনের উপকারিতা এবং ব্যবহার

রসুন প্রায় প্রত্যেকের রান্নাঘরেই এক আবশ্যকীয় উপকরণ। বিশেষ স্বাদ ও গন্ধের জন্য এটি রান্নায় একটি বিশেষ ফ্লেভার সৃষ্টি করে। যেকোনো আমিষ রান্নায় যেমন মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদিতে ও বিশেষ কিছু সবজি বা তরকারি রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। আপনি জানেন কি যে রসুনের গুণ শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ নয় ? রসুন খাওয়ার উপকারিতা নানা রকম ভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। আজ জেনে নিন রসুন ও রসুনের উপকারিতা নানা তথ্য।

রসুন খাওয়ার প্রচলন আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ভারত ও মিশরে আরম্ভ হয় ও ধীরে ধীরে এটি সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। রসুনের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যার ফলে এটি একটি ওষধীয় গুণ সমৃদ্ধ গাছ বললেও একেবারেই ভুল হবেনা | রসুনে রয়েছে এলিসিন, সালফার, জিঙ্ক ও ক্যালসিয়াম যা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য্য দুটির জন্যেই অনবদ্য। এছাড়া রসুনে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ সেলেনিয়াম যা ভিটামিন ই- এর সাথে মিলিত হয়ে এন্টি অক্সিডেন্ট বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে শরীর ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করে। রসুন শরীরে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে। রসুন খাওয়ার উপকারিতা পেতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তত ২ থেকে ৩ কোয়া রসুন অবশ্যই যোগ করা উচিত। অবশ্য কাঁচা রসুন খেতে অসুবিধা হলে তা অন্য কোনো তরকারিতে ব্যবহার করে খাওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রসুন এর উপকারিতা প্রচুর।
ওজন কমাতে রসুন

ওজন কমানোর জন্যে রসুন অনবদ্য। শরীরের এডিপোস কোষগুলিকে রসুনের দ্বারা শক্ত করে এঁটে রাখা যায় যার ফলে উচ্চ পরিমানে থার্মোজেনেসিস নিঃসরণ হয়। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওজন কমতে শুরু করে ও কোলেস্টরলও নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
রসুনে রয়েছে সালফার যা জৈব পদার্থে ভরপুর ও এস-এলিলসিস্টিন। এই দুটোই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ প্রায় সিস্টোলিকে ১০ mmHg ও ডায়াস্টোলিকে ৮ mmHg কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। শরীরে সালফারের পরিমাণ কম হলেই রক্তচাপ বাড়তে শুরু করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিদিন ২ কোয়া কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যেস করুন।

ডায়বেটিস রোধ
রসুন ডায়বেটিস কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এটি শরীরে গ্লুকোসের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ডায়বেটিস কমতে শুরু করে
কাঁচা রসুন নিয়মিত ৩ থেকে ৪ কোয়া খাওয়ার অভ্যেস করুন।

সর্দি কাশি থেকে মুক্তি
সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাস কষ্টের জন্যে রসুন দারুন উপকারি। রসুন ফুসফুসের জমাটভাব দূর করে বুকে বসে যাওয়া কফ নিমেষে তরল করে বের করে দেয়। এমনকি, যাদের শ্বাস কষ্ট বা এসাথেমার সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও রসুন বিশেষভাবে সাহায্য করে |
সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা বা শ্বাস কষ্ট থাকলে ৩ চামচ সর্ষের তেলের মধ্যে ২-৩ কোয়া রসুন ফেলে সেটি গরম করে সারা শরীরে ভালো করে মালিশ করুন। বেশ আরাম পাবেন। তবে এটি করার আগে একবার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ
আমেরিকার একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের সাহায্যে কম করে ১০% কোলেটরল নামিয়ে আনা যায় কারণ রসুন জল ও তেল দুটির সাথেই ভালো করে মিশে যেতে পারে। এর ফলে ২০% থেকে ৬০% পর্যন্ত হাইপারকোলেস্টরোল জড়িত সমস্যা রোধ করা যায়
প্রতিদিন ১ থেকে ২ কোয়া রসুন কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খান, কোলেস্টরল সহজেই কমে যাবে।

হার্টের জন্যে রসুন
বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের সাহায্যে প্রায় সব রকমের হার্টের সমস্যার মোকাবিলা করা যায়। রসুন হার্টের কোলেস্টরল, লিপিড ও সিরাম ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে প্রচুর পরিমাণ এন্টি অক্সিডেন্ট বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে প্লেটলেট সংখ্যাও সঠিক থাকে। এছাড়া এথেরোস্ক্লেরোসিসের বিরুদ্ধেও রসুন দারুন কাজ করে |
খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারিতা হার্টের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে দেখা যায়। রোজ সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খান, উপকার নিশ্চয়ই পাবেন।

আর্থারাইটিসের চিকিৎসায় রসুন
দীর্ঘদিনের ব্যস্ততা, অনিয়ম ও বয়স বাড়ার ফলে হাড়ের স্বাস্থ্য দিনে দিনে ভঙ্গুর হতে শুরু করে যার ফলে আর্থারাইটিস বা অস্টিওপোরোসিসের মত সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে রসুন খুব কার্যকরী বলে দেখা গিয়েছে। রসুন তেল মালিশ করলে হাড়ের রস অনায়াসেই শুকিয়ে যায় যা পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা রোধ করে | এছাড়া রসুনের সালফাইড হাড়ের ভঙ্গুরতা দূর করে |
হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যে রোজ ২-৩ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।

গর্ভাবস্থায় সাহায্যকারী
গর্ভাবস্থার সময় রসুন খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। রসুনের মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলি গর্ভাবস্থার সময় প্রি এক্লাম্পসিয়া রোধ করে ও শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে। এছাড়া এই সময় কোলেস্টরল বা হাড়ের সমস্যা দেখা যাওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। রসুন এই সমস্ত সমস্যাগুলি থেকে বেশ উপকার করে।
গর্ভাবস্থার সময় নিয়মিত ৩ থেকে ৪ কোয়া রসুন অবশ্যই খাবেন।

রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে রসুন
রসুনে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট যা এন্টি অক্সিডেন্ট উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরের সমস্ত বিষাক্ত পদার্থগুলি অনায়াসে বেরিয়ে আসে ও ডি এন এ সফলভাবে তৈরি হয়। সেই কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে |
নিয়মিত ২ থেকে ৩ কোয়া কাঁচ রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।

লিভারের জন্যে রসুন
লিভারে প্রচুর পরিমানে ফ্যাট জমে গেলে তা অত্যন্ত ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। রসুন লিভারের এই ফ্যাট সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় কারণ এটি এলকোহল মুক্ত। এছাড়া এতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা ফ্যাটি লিভার হওয়া রোধ করে |
পালং শাকের সাথে রোজ ১ থেকে ২ কোয়া রসুন ভালো করে কেটে মিশিয়ে একটি স্যালাড তৈরী করে রোজ খাওয়ার অভ্যেস করুন।

ক্যান্সার রোধে রসুন
রসুনে রয়েছে ডাই এলিলসালফাইড ও সেলেনিয়াম যা এন্টিঅক্সিডেন্ট উৎপন্ন করে ক্যান্সারের বিরুধ্যে লড়াই করে ও ডি এন এ নষ্ট করা আটকায় |একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে রসুনের সাহায্যে প্রায় ৩৩% পরিমানে ক্যান্সারের সম্ভাবনা রোধ করা যায় |
রোজ ১ টুকরো কাঁচা রসুন প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়ার অভ্যেস করুন। তারপর ১৫মিনিট হাঁটার অভ্যেস করুন। উপকার পাবেন।

ছত্রাকের ইনফেকশনের চিকিৎসায় রসুন
মহিলা বা পুরুষদের গোপনাঙ্গের চারপাশে অনেক সময় ছত্রাকের ইনফেকশন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রসুন এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে | ক্যানডিডা বা ভ্যাগনাইটিস ইনফেকশনে রসুন উপকারী |তবে কখনোই কাঁচা রসুন ইনফেকশনের ওপরে লাগাবেন না।
প্রতিদিন ২ থেকে ৩ টুকরো করে কাঁচা রসুন খেলে ছত্রাকের সমস্যা দূর হয়।

কিডনির ইনফেকশন দূর করতে রসুন
ক্র্যানবেরির পাশাপাশি রসুনও কিডনির ইনফেকশনের জন্যে দারুণ কার্যকরী। যেসব প্যাথোজিনের জন্যে ইউ.টি.আই হয়ে থাকে সেগুলি রসুনের দ্বারা রোধ করা যায় |এছাড়া ই- কোলাই ইনফেকশনও এই রসুনের সাহায্যে রোধ করা যায় |
কিডনি ইনফেকশন রোধ করতে রোজ ৩ থেকে ৪ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।

যে নিয়মে রসুন খেলে ১০০০ গুন বেড়ে যায় পুরুষের গোপন ক্ষমতা, প্রতিটা পুরুষের জেনে রাখা দরকার

প্রতিযোগীতাময় এই জীবনে টিকে থাকার জন্য একান্তই যেটি দরকার সেটি হল শারীরিক সুস্থতা। যে শারীরিক দিক থেকে যতটা সুস্থ সে এই প্লাটফর্মে সবচেয়ে বেশি সফল। তবে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কী করবেন? হ্যাঁ আপনার বাড়িতেই আছে সেই ভালো থাকার মন্ত্র। আপনার আসে পাশেই রয়েছে সে জিনিস। আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মধ্যেই রয়েছে তা। জানেন কী কী সেই জিনিষ?

না আর কোনো পর্দা নয়, সেই জিনিষটি হল রসুন। হ্যাঁ আপনার ঘরে সব্জীর ডালিতে রাখা এক কুচি রসুনই পারে আপনাকে অনেক রোগ থেকে সুস্থ করে দিতে। এই গতিময় জীবনে রসুনের থেকে বেশি উপকারী আর কিছুই নেই। এরকম টা দাবি .বিজ্ঞানীদের।

রসুন যে শুধুমাত্র আপনার শারীরিক ক্ষমতা ফিরিয়ে আনে তা ই নয়। এটি বৃদ্ধি করে আপনার যৌ’ন ক্ষমতাও। বর্তমান যুগে অনিয়মিত জীবনযাত্রা, ব্যাস্ততা ও কাজের চাপের কারনে দৈহিক অক্ষমতার পরিমানও বেড়েই চলেছে।
এই দৈহিক অক্ষমতা হল শুক্র স্বল্পতা। অর্থাত্‍ প্রচন্ড কাজের চাপ ব্যাস্ততার মাঝে কেউই সেরকম নিজের শরীরের যচ্ন নিতে পারেননা। তাই শরীরে শুক্রা’নুর সংখ্যা কমে যায় অনেক সময়।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে প্রতি মিলিগ্রাম স্পার্মে ২০ মিলিয়ন শুক্রানুর উপস্থিতি না থাকে তাহলে সেই স্পার্মটি অনুর্বর়। ষ্পার্ম অনুর্বরের ফলে সেই পুরুষটিও হয়ে পরে অনুত্‍পাদনশীল। কিন্তু মাত্র এক কুচি রসুন বাঁচাতে পারে আপনাকে। তবে এই রসুন খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। দেখে নিন সেগুলি।

সকালে উঠে খালি পেটে এক কোয়া বা ২ কোয়া রসুন খাওয়া খুবই উপকারী।
এটি আপনার যৌ’ন ইচ্ছে বাড়াতেও উপযোগী। শুধু প্রতিদিন খান এক কোষ বা ২ কোষ রসুন।
যারা পড়ন্ত যৌবনে আছেন তাতের কয়েক কোয়া রসুন গাওয়া ঘি য়ে ভেজে খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। তবে খাওয়ার পর একটু গরম দুধ বা গরম জল খেলে তা আরও ভালো কাজ দেয়। এটি বয়স্ক দের কোঁচকানো চামরা টান টান করতে কাজে লাগে।

সাবধানতা= তবে সাবধান শুধু রসুন খেলেই চলবে না হতে হবে সাবধান। কারণ, রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে। তা ছাড়া অতিরিক্ত রসুন শরীরে এলার্জি ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই উত্তম। রসুন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করলে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখুন।
আপনার যদি নিচের তালিকার কোনো একটি পরিস্থিতি বা সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনার একেবারেই রসুন খাওয়া উচিত না।
অনেকের রসুন খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা যায়। তাদের রসুন খাওয়া উচিত নয়।
পেটের আলসার, আই.বি.এস, আই.বি.ডি. বা যেকোনো রকমের ইন্টেস্টাইনের সমস্যা থাকলে রসুন খাওয়া উচিত নয়।
কোনোরকম সমস্যার জন্যে যদি আপনার ডাক্তার রসুন খেতে না করেন, তাহলে রসুন খাওয়া উচিত নয়।
সবকিছুর মধ্যেই ভালো ও মন্দ দুটি দিকই থাকে। এক্ষেত্রেও তাই। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে ঠিক কতটা পরিমাণ রসুন খাওয়া আপনার জন্যে ঠিক। যাই হোক না কেন, রসুন খাওয়ার উপকারিতা প্রচুর। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণ রসুন অবশ্যই খাওয়া উচিত। এর ফলে আপনার শরীরের নানারকমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। রসুন নিয়ে আমাদের এই তথ্যগুলি কেমন লাগলো আপনার? এর মধ্যে কোনোটা কি আপনার কাজে লাগল ? কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Comments are closed.