Trending Bangla Blogs

শীতের আগমনে শিশুদের সুস্থ রাখতে কী করবেন

শীতের আগমনে শিশুদের সুস্থ রাখতে কী করবেন

85

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে হেমন্ত।তাই আজকে আলোচনা করা হবে শীতের আগমনে শিশুদের সুস্থ রাখতে কী করবেন তা নিয়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। এখন বাচ্চাদের সাবধানে রাখার সময়।

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে হেমন্ত। দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। এখন বাচ্চাদের সাবধানে রাখার সময়। ঋতু পরিবর্তনের এসময়ে বিশেষত বাচ্চারা নানা রোগে আক্রান্ত হয়। হাঁচি, কাশি, জ্বর, গলা ব্যথাসহ নানা শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। এসবই ‘কমন কোল্ড’ বা ঠান্ডা লাগা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, চিকেন পক্স, হুপিং কফ থেকে হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের মতো করে বাচ্চারা (বিশেষত 2 বছরের কম বয়সী) তাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নয়।শীতের শুরুতে, আপনি হয়ত খেয়াল করবেন যে কীভাবে শিশুর হাত–পাগুলি ঠান্ডা হয়ে যায় এবং তা গরম রাখার জন্য অবিলম্বে আপনি কিছু করতে চাইবেন।তাদের জন্য উপযুক্ত শারীরিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য রাত্রি বেলা ঘুমানোর সময় তাদের আরামদায়কভাবে চাপা দিয়ে দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তবে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পোশাকের অতিরিক্ত স্তর হঠাৎ শিশু মৃত্যু সিনড্রোমের (এসআইডিএস) ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

শিশুরা তাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।শীতের গরম জামা–কাপড় পরিয়ে এবং ঘরের তাপমাত্রায় সামঞ্জস্য এনে মা–বাবারই সেটি রক্ষা করা দরকার।এখানে বলা হল রাত্রে কীভাবে আপনি আপনার ছোট্টটিকে উষ্ণ রাখবেন যাতে সে আরাম করে ঘুমাতে পারে।

শীতের রাতে ঘুমানোর সময় আপনার শিশুকে গরম রাখার সবচেয়ে সেরা উপায় হল তাকে পায়ের তলা পর্যন্ত একটি স্লিপস্যুট পরানো, যাতে সেটি তার পা এবং পায়ের আঙ্গুলগুলিকেও উষ্ণ রাখে।যদি আপনার শিশুর ঘরটি তাপমাত্রার স্কেলের শীতল প্রান্তে থাকে তবে তার স্লিপসুটের তলায় একটি পাতলা গেঞ্জি বা জামা পরিয়ে রাখুন।

যদি আপনার মনে হয় যে শীতের রাতে আপনার শিশুর জন্য কেবল এক সেট সুট–ই যথেষ্ট নয়, তবে তার আরাম এবং শান্তিপূর্ণ ঘুমের জন্য একটা নরম কম্বল দিয়ে তাকে ভালোভাবে জড়িয়ে দিন।যদি সে পা ছুঁড়ে কম্বলটা বারবার খুলে ফেলে, তবে তাকে একটা স্লিপিং ব্যাগে রেখে দিতে পারেন।

একটা উপযুক্ত সুতির চাদর এবং একটা নরম, তুলতুলে কম্বল শিশুকে তার বিছানার মধ্যে গরম রাখতে পারে।তাছাড়াও, পাতলা কম্বলের কিছু অতিরিক্ত স্তর তার গায়ে চাপা দেওয়া অথবা তার গা থেকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, ঘরের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।বিকল্পরূপে, একটি ছোট শিশুকে রাত্রে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখার জন্য একটা বেবি স্লিপিং ব্যাগ বা স্লিপ–স্যাকের ব্যবহার সেরা বিকল্প হয়ে উপঠতে পারে।

আপনার বাচ্চা যদি কম্বল চাপা দেওয়ার খুব একটা বড় ভক্ত না হয়, তবে দস্তানা ও মোজার দ্বারা তার হাত এবং পাগুলিকে গরম রাখুন।

বিছানায় বা বাড়ির কোথাও ঘুমানোর সময় শিশুর মাথা ঢেকে রাখবেন না।এটি তার দেহে অতিরিক্ত উত্তাপ সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠতে পারে, যেহেতু অতিরিক্ত পরিমাণে তাপ শিশুর মাথার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।আপনার শিশু একবার ঘুমিয়ে পড়ার পরে, সে ঘামছে, গরমে রাঙা হয়ে উঠছে বা দ্রুত শ্বাস ফেলছেচ কিনা তা লক্ষ্য করুন। তার ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে দিন অথবা শুধুই তার চাপা বা মাথার টুপি খুলে সরিয়ে দিন।

সর্বদা নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার শিশুটি ভিতর থেকেই শুকনো রয়েছে কারণ স্যাঁতসেঁতে পোশাকের জন্য সামান্য আর্দ্রতাও হাইপোথার্মিয়ার কারণ হতে পারে, এমনকি সেক্ষেত্রে যদি বাইরের তাপমাত্রা 40 ডিগ্রি ফারেনহাইডের থেকেও বেশি হয়।

শীতের সময় আপনার বাচ্চাকে উষ্ণ রাখার জন্য, গাড়ির আসনটি উদ্বেগের একটা বড় বিষয় হয়ে ওঠে কারণ কোটের মতো বিশাল কাপড়গুলি ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষিত রাখতে স্ট্র্যাপগুলিতে আরামদায়কভাবে ফিট করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

যদিও শীতের প্রবল ঠাণ্ডায় একটি শিশুকে গরম রাখাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জের একটা কাজ, তবে সামান্য জ্ঞান আপনাকে এবং আপনার শিশুকে শীতের সময়, বিশেষকরে রাত্রিবেলায় শরীরের সামঞ্জস্যপূর্ণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।শীতের ঠাণ্ডা নিয়ে নিজেকে খুব বেশী স্ট্রেস দেবেন না, শুধু নিশ্চিত করুন যে গরম রাখার জন্য আপনি আপনার বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পোশাক পরিয়েছেন এবং একবারে আধ মিনিটের বেশী তাকে ঠাণ্ডায় উন্মুক্ত করা হয় নি।তবে আপনার নিজের সাহসের উপর বিশ্বাস রাখুন আর এই ঋতুতে আপনার শিশুকে উষ্ণ রাখার জন্য শীতের কঠোর রুক্ষতা ও শুষ্কতার মোকাবিলা করতে উপরে বর্ণিত টিপস ও কৌশলগুলি অনুসরণ করুন।

ভারতের চিকিৎসক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী জানান, কিছু বাচ্চা ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা ব্রঙ্কাইটিসে ভোগে। তাদের জন্য সময়টি খুবই কষ্টকর। এসময়ে মাঝে মধ্যেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। শীতকালীন ডায়রিয়া হয় বাচ্চাদের। এজন্য দায়ী রোটা ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হলে বাচ্চারা শীতে ডায়রিয়ার কষ্ট পায়।

শীতের আগমনে বাচ্চাদের আরও কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, এসময়ে বাচ্চাদের টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়ে যায়। এ রোগে গলা ব্যথা, জ্বর, ঢোক গিলতে ব্যথা লাগে তাদের। খুব ছোট বাচ্চারা কষ্টের কথা, অস্বস্তির কথা জানাতে পারে না। তাই তারা অনবরত কাঁদতে থাকে। ঘ্যানঘ্যান করে। শীতের সময়ে গলার সংক্রমণ বা ফ্যারিঞ্জাইটিসেও আক্রান্ত হয় বাচ্চারা। ছোটদের ক্ষেত্রে এ রোগও বেশ কষ্টকর। অনেকের ধারণা, গরমকালেই শুধু চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু শীতকালেও তা হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছত্রাকের আক্রমণ হয়। ফলে বাচ্চাদের দাদ, চুলকানি ইত্যাদি অস্বস্তিকর চর্মরোগ বেশি করে হতে পারে।

সৌমশঙ্কর জানিয়েছেন, শীতের আগে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় বাচ্চাদের সম্পর্কে সাবধান থাকা দরকার। বেশ কয়েকটি বিষয়ে সাবধানতা দরকার হয়। ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে নজর রাখা জরুরি। তাই শীতের পোশাক ব্যবহার করা দরকার। বাচ্চাদের গলা যেন ফাঁকা না থাকে। তাই মাফলার পরিয়ে বাইরে বের করা দরকার। যেসব বাচ্চা হাঁটতে শেখেনি, তাদের দিকে নজর দেয়াটা বেশি করে দরকার। ঠাণ্ডা লাগলে বাচ্চাদের গার্গল করানো যেতে পারে। দিনে অন্তত তিনবার গার্গল করানো যেতে পারে। মধু, তুলসী ইত্যাদি খেলেও ঠান্ডা লাগা এবং গলা ব্যথা থেকে আরাম মিলতে পারে।

খাওয়া দাওয়ার বিষয়েও সচেতন থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন এ চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, বাচ্চাদের পানি ফুটিয়ে খাওয়ানো উচিত। বাসি খাবার এবং না ঢাকা খাবার খাওয়ানো উচিত নয়। অ্যাজমায় ভোগা রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইনহেলার ব্যবহার করতে পারেন। তাতে আরাম মিলবে। ঠাণ্ডা লাগলে বা গলা ব্যথা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রতিষেধক ও ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

Comments are closed.