Trending Bangla Blogs

সন্তানের স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তি হলে কি করবেন!

73

সন্তানের স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তি হলে কি করবেন!

আপনার সন্তানের স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তি হলে কি করবেন এমন প্রশ্ন অনেকের ভেতরেই রয়েছে। তাই আমাদের আজকের প্রতিবেদন টি সেই সকল বাবা মা এর প্রতি। সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন আর শেয়ার করে দিন সকলের কাছে।

আজকালকার দিনে অনেক সময়ই বাবা-মাকে বলতে শোনা যায়, নিজেদের চেয়ে স্মার্টফোনের বিষয়ে তাদের সন্তানরা বেশি জানেন। কারণ এখনকার দিনের ছেলেমেয়েরা অনেক ছোট বয়স থেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শুরু করেছে। যার ফলে তারা স্বাভাবিকভাবেই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবেলেটের সম্পর্কে খুব কম বয়সেই অনেক কিছু ধারনা পাচ্ছে আর তা শিখে যাচ্ছে।

এই প্রভাবের ভালো মন্দ দুটো দিকই রয়েছে। ভালোটা হলো আজকের এই প্রযুক্তি নির্ভর যুগে প্রযুক্তি ছাড়া কিছুই হয় না। সেখানে এখনকার ছেলেমেয়েরা খুব অল্প বয়স থেকে প্রযুক্তির বিষয়ে অনেক জেনে যাচ্ছে। কিন্তু এর খারাপ দিক ও যে আছে। দেখা যাচ্ছে, আজকের অনেক ছেলেমেয়েই প্রযুক্তির প্রতি রীতিমতো আসক্ত। এমনকি এক-দু বছরের শিশুরাও হাতে স্মার্টফোন পেলে আর ছাড়তে চায় না। আশেপাশের মানুষের প্রতি কোন খেয়ালই তাদের থাকে না।

অতিরিক্ত আসক্তির প্রভাবঃ

অতিরিক্ত স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ব্যবহার করলে তার প্রভাব বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্যে পড়তে পারে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় আসক্ত হয়ে থেকে তারা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে একে বারেই শিখবে না। ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলতে খেলতে বাইরের খোলা হাওয়ায় গিয়ে খেলাধুলো করা ভুলে যাবে। আর এভাবে ক্রমে ক্রমে একাকীত্ব গ্রাস করবে তাদের।পাশাপাশি বেশি সময় স্মার্টফোন দেখলে চোখ খারাপ হতে পারে, মাথার যন্ত্রনা হতে পারে, ওজন বেড়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে চোখের জ্যোতি তো কমবেই।

জেনে নিন কীভাবে সন্তানের প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি কমাবেন-

চাইলেই আপনি হঠাৎ করেই স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করতে পারবেন না তার জন্য আপনাকে বিচক্ষণ ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।আপনার সন্তান দিনে কতক্ষণ আর কখন স্মার্টফোন ব্যবহার করবে, তার একটা সময় বেঁধে দিন। আপনার সন্তান মোবাইলে কী দেখে বা কোন গেম খেলে ইউটিউবে কোন চ্যানেল গুলো বেশী দেখে তার প্রতিও বিশেষ নজর রাখুন। প্রয়োজনে খারাপ চ্যানেল গুলো হাইড করে রাখুন।

আপনার সন্তান ইন্টারনেট ঠিকমতো ব্যবহার করছে কিনা, সেটা আপনার জানা জরুরি। সে মোবাইলে কোন কোন গেম খেলতে পছন্দ করে সেটা জেনে নিন। ভাববেন না সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিলেন মানে আপনি বেশ কিছুটা সময়ের জন্য ফ্রি হয়ে গেলেন। তারা ইন্টারনেটে কী করছে, সেদিকে নজর না রাখলে ভবিষ্যতে বিপদ হতে পারে। নিজেদের অজান্তে ওরা ভুল করে কোনও আপত্তিকর ওয়েবসাইটেও ঢুকে যেতে পারে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সাবধানতাঃ

সন্তানকে পুরোপুরি প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে দেবেন না। ব্যবহারের সময় পারলে কিছুক্ষণ তার সাথেই থাকুন আর নজরে রাখুন। সে কী কী গ্যাজেট ব্যবহার করে, সেটা আপনার জানা জরুরি। আপনার সন্তান কি খুব বেশি সময় টিভি দেখে? বা নিজের স্মার্টওয়াচ নিয়ে ব্যস্ত থাকে? ল্যাপটপ খুলে গেম খেলে? আপনি নজর রাখছেন দেখলে এগুলো ব্যবহার করা একটু কমাবে সে।

সন্তানের সকল গ্যাজেটস এর প্রতি নজর রাখাঃ

আপনার সন্তান যেসময় টিভি বা মোবাইল দেখে, সেসময় আপনিও সঙ্গে থাকুন। একসঙ্গে বসে কিছু দেখুন। এতে সে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে তা আপনার নজরে থাকবে। আপনি পাশে আছেন বল ও সতর্কও থাকবে। আর একসঙ্গে বসে কোনও ভিডিও বা মুভি দেখলে আপনাদের মধ্যেও বোঝাপড়া বাড়বে এবং আগ্রহও বাড়বে এক সাথে কিছু দেখার।

আপনার নিজের স্মার্টফোন ব্যবহারে সাবধানতাঃ

আপনি যদি খুব বেশ প্রযুক্তিতে আসক্ত হন, তাহলে স্বাভাবিকভাবে আপনার সন্তানও সেটাই করবে। তাই আগে আপনার নিজের আসক্তি দূর করুন।যতটা সম্ভব আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় অন্তত সন্তানদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।

প্রভাবিত করুন নতুন কিছুঃ

প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধে অসুবিধে দুটোই আপনার সন্তানকে ভালো করে বুঝিয়ে বলুন। তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। যাতে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কী বিপদ হতে পারে, সেটা যেন আপনার সন্তান জানে এবং বুঝতে শিখে। সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো মিশে তার এবং আপনার দুজনের পছন্দ গুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করুন।বিভিন্ন শিক্ষামূলক চ্যানেল গেম এবং মুভি দেখুন এবং আপনার সন্তানদের ও তা দেখতে উৎসাহিত করুন।

আর্টিকেল টি পড়ে ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন বন্ধুদের মাঝে।

Comments are closed.